
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে আবারও মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে জেলেরা হ্রদে জাল ফেলতে শুরু করেন। ৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জলাধারে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় রাঙামাটির অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর থেকে রাঙামাটির বিএফডিসি ঘাটে শত শত মাছভর্তি ট্রলার ভিড়তে শুরু করে। প্রথম দিনে চাপিলা ও কাচকি মাছের আধিক্য দেখা গেলেও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, পানি কমতে শুরু করলে বড় আকারের মাছের সরবরাহ আরও বাড়বে।
বিএফডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদ থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয় এবং এ থেকে ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন পর মাছ ধরতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলেরা। জেলে বাসু দাস বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন আবার মাছ ধরতে পারায় পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশা করছেন তারা।
ব্যবসায়ী মো. পান্না মিয়া জানান, প্রথম দিন মাছের সরবরাহ ভালো হলেও অধিকাংশ মাছের আকার ছোট। কার্পজাতীয় মাছের পরিমাণও তুলনামূলক কম। তবে আগামী দিনগুলোতে মাছের সরবরাহ ও আকার দুটোই বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাঙামাটি বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, দীর্ঘদিন মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বৃদ্ধির সুযোগ দেওয়ায় এবার হ্রদে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে। প্রথম দিনের মাছ অবতরণ ও স্থানীয়দের উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছে, চলতি মৌসুমে মাছ উৎপাদন ও রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।